বাংলাদেশে পুঁজিবাজারেও এদিন দরপতন হয়েছে, যদিও এর তীব্রতা আগের দিনের চেয়ে কম ছিল। গতকাল দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের পাশাপাশি দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ কমেছে ৩৪ শতাংশ।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রয়চাপের কারণে নিম্নমুখী ছিল সূচক। মাঝে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা হলেও দিন শেষে নিম্নমুখিতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩২৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৩২৫ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ৫০ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৬৩ পয়েন্ট।
গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের শেয়ার।
ডিএসইতে গতকাল ৫৮২ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৮৮৫ কোটি টাকা। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৯৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর কমেছে ১১২টির, বেড়েছে ২২৭টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৫৪টির বাজারদর।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। এ যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে এবং এতে অঞ্চলটি থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর বাংলাদেশের বড় ধরনের নির্ভরতা থাকার কারণে এর সমূহ প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেনের ক্ষেত্রেও তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ১ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। বস্ত্র খাত ৮ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ৬ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা সেবা ও আবাসন খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
গতকাল ডিএসইতে টেলিযোগাযোগ, ওষুধ ও রসায়ন, সিমেন্ট, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক এবং চামড়া ছাড়া বাকি সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ৫৩ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ১৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ৬৮ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৭০ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর কমেছে ৯৬টির, বেড়েছে ৫৮টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৬টির বাজার। গতকাল সিএসইতে ৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।